স্কুল কোড : ৭৩০০, এমপিও : ৮৯০৩০১১৩০৪, থানা কোড : ৫৫২০, ইআইআইএন নং: ১২২৮৩২
Text size A A A
Color C C C C

কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়


১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ০৪ জানুয়ারী অনাড়ম্বর পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন । প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের চেয়ে সেদিন উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের অভিমত গুলি বেশি অর্থবহ বলে এখানে আরেকবার স্মরণ করা হলো । সাবেক পার্লামেন্ট সেক্রেটারি ও শিক্ষক প্রয়াত জহির উদ্দিন আহম্মেদ অনাডম্বর পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বলেন–কোন মহৎ কাজই তুর্যধ্বনি দিয়ে আসে না ,মহা অনাডম্বর শুরুও হয় না , সেই আলোকে আজ আমরা একটি মহৎ কাজই আল্লাহ চায় সূচনা করলাম । সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক প্রয়াত জনাব শেখ ফজলে করিম বলেন- সব দীর্ঘ যাত্রাই তো ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে শুরু হয় , হয়তো সেরুপই হলো , সাংগঠনিক কমিটির প্রথম সভায় প্রয়াত জনাব আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন এখানে করিম উদ্দিন আহম্মেদ এর সব কাজেই এলাকাবাসী ভাল ভাল বলেই মাথায় তুলে নেয়, সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির নাম করিম উদ্দিন পাবলিক জুনিয়র স্কুল বলেই এলাকাবাসীর দৃষ্টিটা এদিকেই থাকবে। প্রতিষ্ঠাতা করিম উদ্দিন আহমেদ বলেন- “হাজার বক্ততার চেয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান তৈরী করলেই বক্তব্য পরিষ্কার হয়, শিক্ষার সাগরে অনেক বড় বড় জাহাজ ভাসানো হয়েছে, আজ আমি এক টুকরো মাঠ ভাসালাম , লাভ হলো কি না ভবিষ্যতেই বলবে ।“

 

 

বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুমতি লাভ করে , পরিবেশটি স্নিগ্ধ ও সুনিবিড়, হওয়ার কারনে ১৯৬৭ সালে থানা হেড কোয়াটার স্কুল হিসেবে ঘোষিত হয় । ১৯৬৯ সাল থেকে এটি বহুমুখী পর্যায়ে উন্নীত হয় , ১৯৭১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে অনুমতি প্রাপ্ত হয় এবং ১৯৮০ সালে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে । বর্তমানে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানটিতে কারিগরি শিক্ষাসহ সাধারন শিক্ষার সব রকম সুযোগেই রয়েছে । ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটোরিরাল কেন্দ্র হিসেবে এস,এস,সি কোর্সেও চালু আছে । ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় এস,এস,সি ভোকেশনাল কোর্স চালু হয় । বর্তমানে ৩৩ জন শিক্ষকসহ ৭ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন । বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠ প্রতিনিয়ত পুরোনো ছাত্র-ছাত্রীরা আসে দল বেঁধে শুভেচ্ছা জানাতে, যেন শরতের নীল আকাশ দল ছুটো মেঘ, এখানে প্রাক্তনরা ফিরে এসে সৃতি মন্থন করেছে আর নব প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরাও গৌরবময় ইতিহাস শুনে মুগ্ধ হচ্ছে । ২০০৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশে TQI-SEP প্রকল্প এর মাধ্যমে ১৫টি স্কুলকে CCS(Cluster Center School) নির্বাচিত করলে অত্র প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ CCS হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদকে কানাডার Kingston এ Queens University তে ২১ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ইতিহাস অর্জন ২০১০ সালে British Council এর Connecting Classrooms প্রকল্পের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অন্ত্রর্ভূক্ত হয় এবং এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ ২০১২ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের একজন স্কুল এম্বাসেডর নিযুক্ত হন। ২০১৩ সালে দক্ষিন কোরিয়ার সিউলে ইউনেস্কোর আয়জনে ই-লার্নিং শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক অংশ নেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর কানেক্টিং ক্লাসরুমস এর আওতায় লন্ডনের Sir Jhon Cass Red Coat Secondary School পরিদর্শন করার সুযোগ পান প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ ও সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ বদলুল আলম । ২০১৭ সালে প্রধান শিক্ষক জনাব খুরশীদুজ্জামান আহমেদ মালেশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ‘’ Univercity of Malaya’’ এ ‘’ আই, সি,টি’’ বিষয়ক প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। কালীগঞ্জ করীম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সংক্ষেপে কে,ইউ,পি স্কুল বলা হয়। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ এ স্কুলটিতে বিতর্ক চর্চা যেন এখন নিয়মিত আবশ্যিক কাজে পরিনত হয়েছে । এ স্কুলের বিতর্ক চর্চার ইতিহাস অনেক পুরাতন হলেও নিবিড়ভাবে চর্চা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে । ২০১২ সালে ব্র্যাক- এটিএন বাংলা ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ‘বিতর্ক বিকাশ’’ জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অত্র স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জান্নাতুন নাঈমা সোমা, মোঃ শাহনেওয়াজ সম্রাট , হুমাইয়া আক্তার হ্যাপি , রেহেনা আফরোজ রুমা, মোঃ তারিকুল ইসলাম তুহিন ও সুমাইয়া বিনতে কাওসার তিথিদের একটি দল প্রথম বছরেই চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৩ সালে জান্নাতুন নাঈমা সোমা, রেহেনা আফরোজ রুমা, আমীর সোহেল রাব্বী, ইশরাত জাহান টুম্পা ও আলীরাজ সঞ্চয় এর একটি দল জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় । ঐ বছরে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর আয়োজনে উপস্থিত বিতর্কে রংপুর বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহন করে । ২০১৩ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত তাৎক্ষনিক বক্তিতায় জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় শাহনেওয়াজ সম্রাট । ২০১৪ সালে প্রথম আলো ও পেপসোডেন্ট এর আয়োজনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেমি ফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হয় এবং দল চ্যাম্পিয়ন না হলেও বায়োয়ারি বিতর্কে জান্নাতুল নাঈম সোমা জাতীয়ভাবে “সেরাদের সেরা” হওয়ার গৌরব অর্জন করে । এবছরেই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুর অঞ্চলের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ।